সৌদি আরবে স্কুলের পাঠ্যবই থেকে জেরুজালেম এবং কোরআন-হাদিসের নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদ দেওয়ার পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে একটি ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা। সম্প্রতি প্রকাশিত পর্যালোচনায় দেশটির শিক্ষা কারিকুলামে ‘মুসলিমরা কখনও জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’-এমন বাক্য ও অনুচ্ছেদ সরিয়ে নেওয়ার তথ্য সামনে আসার পর জেরুজালেমভিত্তিক সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট-সে’ (IMPACT-se) সৌদি কর্তৃপক্ষের ব্যাপক প্রশংসা করেছে।
সংস্থাটি গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি পাঠ্যক্রমের ওপর তাদের বার্ষিক পর্যালোচনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে অন্তর্ভুক্ত থাকা উক্ত বক্তব্যটি জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে বলে ইঙ্গিত করত এবং পুরো বিষয়টিকে আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করত। নতুন সংস্করণে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দূর করাকে একটি বড় সংস্কার হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইমপ্যাক্ট-সে যেসব বিষয়কে ইহুদিবিদ্বেষ বা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিল, তার প্রায় সব উদাহরণ নতুন পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোরআন ও হাদিসের কিছু অংশের পরিমার্জন এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়া ও পরবর্তীতে তার ইসলাম গ্রহণের সুপরিচিত হাদিসটি সরিয়ে নেওয়াকে তারা ‘ইতিবাচক উন্নয়ন’ বলে অভিহিত করেছে।
সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের এই পরিবর্তনগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত। তবে পাঠ্যক্রমের ব্যাপক সংস্কার হলেও এখনও কিছু বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে; কারণ সেখানে শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে ইসলামই মানবজাতির স্বাভাবিক ধর্ম। সামগ্রিকভাবে পাঠ্যবইয়ে আনা এসব পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Leave a comment