যুক্তরাজ্যের একটি চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো একটি সাপের শরীরে ক্যানসারের বিশেষ চিকিৎসা ইলেকট্রোকেমোথেরাপি প্রয়োগ করে সফলতা পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। ২৩ বছর বয়সী একটি অজগরের চোয়ালে ক্যানসারের টিউমার অস্ত্রোপচারের পর আবার ফিরে আসায় চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সর্বশেষ পরীক্ষায় অজগরটির শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
চেস্টার চিড়িয়াখানার ১৫ ফুট (৪ দশমিক ৫ মিটার) লম্বা একটি রেটিকুলেটেড পাইথনকে বিশ্বের প্রথম পরিচিত সাপ হিসেবে ইলেকট্রোকেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। টিউমারটি আবার ফিরে এসে অজগরটির চোয়ালের হাড়ের একটি অংশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল।
৫০ কেজি ওজনের অজগরটির নাম জোডি ফস্টার। পরিচর্যাকারীরা লক্ষ্য করেন, আগের তুলনায় সে কম খাচ্ছে এবং বেশি সময় নিষ্ক্রিয় থাকছে। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে ম্যালিগন্যান্ট ফাইব্রোসারকোমা নামের এক ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়। প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছিল। পরে সেটি আবার ফিরে আসে।
জোডির চিকিৎসায় চেস্টার চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসকেরা লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেন। তাঁরা জোডির জন্য ইলেকট্রোকেমোথেরাপি চিকিৎসাপদ্ধতিকে উপযোগী করে নেন।
এই চিকিৎসায় ব্লোমাইসিন নামের একটি ক্যানসারের ওষুধের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক পালস ব্যবহার করা হয়। বৈদ্যুতিক পালসের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্যানসার কোষের আবরণকে আরও প্রবেশযোগ্য করে তোলা হয়। এতে ওষুধটি কোষের ভেতরে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারে।
চেস্টার চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ইয়ান অ্যাশপোল জানান, টিউমারটি বারবার ফিরে আসায় চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, একসময় এটি জোডির খাবার গ্রহণের ক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সাপের শরীরে ইলেকট্রোকেমোথেরাপি ব্যবহারের বিষয়ে অ্যাশপোল বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, কোনো সাপের শরীরে এর আগে কখনো এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়নি।’
প্রায় ৯০ মিনিট ধরে জোডির অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা চলে। এ সময় টিউমার অপসারণের পাশাপাশি আক্রান্ত চোয়ালের হাড়ের একটি অংশও সরিয়ে ফেলেন অ্যাশপোল। জোডির আকার এত বড় হওয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য দুটি অপারেশন টেবিল পাশাপাশি জোড়া দিতে হয়েছিল।
চোয়ালের হাড়ের একটি অংশ হারালেও জোডির খাওয়ার ক্ষমতা কিংবা শিকার করার সক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়েনি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে করা সর্বশেষ পরীক্ষায় তার শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
Leave a comment