সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় জামালপুরে টানা দুই দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জেলার হাজারো সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও গৃহস্থালি গ্রাহকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ৩টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশার চালকেরা।
জামালপুর জেলার একমাত্র ‘মেসার্স জবেদ ফিলিং স্টেশন’-এ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন চালকেরা। জেলায় প্রায় তিন হাজার নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য জেলা থেকে আসা আরও অন্তত দুই হাজার সিএনজি প্রতিদিন জেলায় চলাচল করে। ফলে আকস্মিক এই সংকটে প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশার চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। সিএনজি চালক তারা মিয়া বলেন, ‘গতকালকেও অনেকক্ষণ গ্যাস ছিল না। আজকেও সকাল থেকে গ্যাস নাই। আমরা তাহলে কীভাবে গাড়ি চালাব? গাড়ি না চালালে খাব কী? কিস্তি কীভাবে দেব?’
আরেক চালক মো. ফারুক বলেন, ‘জেলার সব সিএনজি দুই দিন ধরে বসে আছে। এভাবে চললে আমরা কীভাবে চলব?’
সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে। রিকশা ও বিকল্প যানবাহনগুলো বাড়তি ভাড়া দাবি করায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালে আসা রোগীরা বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বেশির ভাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ছিল না। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রান্না বন্ধ থাকায় অনেকে চড়া দামে হোটেলের খাবার কিনছেন কিংবা এলপিজি স্টোভ ব্যবহার করছেন।
শহরের চামড়াগুদাম এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা বলেন, ‘গতকাল সকালে উঠে দেখি গ্যাস নেই। সন্ধ্যার পর এসেছিল। আজ সকালে উঠেও দেখি গ্যাস নেই। কখন আসবে জানি না। কত দিন গ্যাস থাকবে না, সে বিষয়েও আমাদের কোনো ধারণা নেই। আগে থেকে মাইকিং করে জানানো হলে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারতাম।’
সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুপ্তি আক্তার বলেন, ‘আমি একজন গর্ভবতী। হঠাৎ করে গ্যাস চলে যাওয়ায় আমাদের খাওয়া-দাওয়ার অনেক সমস্যা হচ্ছে। গ্যাস থাকবে না, এটা আগে থেকে জানলে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারতাম।’
তবে জেলায় গ্যাসনির্ভর বড় কোনো ভারী শিল্পকারখানা না থাকায় উৎপাদন বা ব্যবসা খাতে এই সংকটের বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ম্যানেজার দুর্জয় খকসী বলেন, মূল সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। জামালপুর জেলায় তিতাস গ্যাসের মাসিক চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনমিটার।
Leave a comment