ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) উপজেলার নাগিরাট গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধকে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছে।
আটককৃত ব্যক্তির নাম কুদ্দুস মিয়া (৬২)। তিনি শৈলকুপা উপজেলার নাগিরাট গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে নাগিরাট গ্রামের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া প্রতিবেশী ওই অবুঝ শিশুটিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে কৌশলে তার ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। কুদ্দুস মিয়ার পাশবিক আচরণের মুখে পড়ে শিশুটি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে।
শিশুটির কান্নার আওয়াজ ও চিৎকার শুনতে পেয়ে আশেপাশের বাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়দের আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়া বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়াকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
ওসি আরও বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়াকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুটির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
Leave a comment