মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রেখে অঞ্চলে টেকসই শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তার বার্তায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ‘ইসরায়েল প্রথম’ (Israel First) পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তি মূলত হিজবুল্লাহর অটল প্রতিরোধের ওপরই নির্ভর করছে।” গালিবাফ আরও জোর দিয়ে বলেন যে, হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের ইরান আলাদা কোনো গোষ্ঠী মনে করে না; বরং তারা সবাই ইরানের ‘প্রতিরোধী ফ্রন্ট’-এর অংশ এবং একই সূত্রে গাঁথা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ২ মার্চ থেকে লেবাননেও ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত দেড় মাসে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ২৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মুখে কয়েক লাখ লেবানিজ নাগরিক গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে বিড়ম্বনার বিষয় হলো, এই চুক্তির পরেও লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন কেবল ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী হলেও তাদের মিত্র ইসরায়েলকে লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের এই মন্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার একটি কৌশল। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে বা লেবাননকে অরক্ষিত রেখে কোনো একক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারবে না।
Leave a comment