মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে । ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব ডা. আলী লারিজানি নিহতের প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বুধবার (১৮ মার্চ) আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৬১তম ধাপে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। লারিজানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই প্রতিশোধমূলক হামলায় ইরান তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাল্টি-ওয়ারহেড ‘খোররামশাহর-৪’ এবং ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এছাড়াও এমাদ ও খেইবার শেকান প্রজেক্টাইল নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের অত্যন্ত শক্তিশালী ও বহুমুখী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানে।
প্রাথমিক তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, এই তীব্র হামলার ফলে তেল আবিবের বিশাল অংশে ‘আংশিক ব্ল্যাকআউট’ বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে করে উদ্ধার তৎপরতা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি বাহিনীর বেগ পেতে হচ্ছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, চলমান এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৩০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি হতাহত হয়েছে।
হামলার পরিধি কেবল তেল আবিবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অধিকৃত আল-কুদস (জেরুজালেম), হাইফা বন্দর, প্রযুক্তিগত কেন্দ্র বিয়ের শেবা এবং নেগেভ মরুভূমির কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের এই তীব্র প্রতিশোধমূলক অভিযানের আওতায় ছিল।
গত ১৬ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় ডা. আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল। ইরান এই হত্যাকাণ্ডকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই পাল্টা হামলার পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: প্রেস টিভি।
Leave a comment