যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উপকণ্ঠ সাউথএন্ড-অন-সি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি আমির আলী (৫৮)। দীর্ঘ ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রয়েল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিহত আমির আলী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাহাড়া দুবাগ গ্রামের মৃত তবারক আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমির আলী তার ছেলেকে কর্মস্থলে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। গ্যারেজে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার নিজের গাড়ির একটি কাঁচ ভাঙা। তিনি যখন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি পরিষ্কার করছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের মার্সিডিজ গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি পার্কিং লটেই লুটিয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আমির আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ (হেলিকপ্টার) যোগে তাকে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, আমির আলীকে আঘাত করা সাদা রঙের মার্সিডিজ গাড়িটি ছিল একটি ‘চুরি করা গাড়ি’। ওই ঘটনার পর চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেলেও সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে লন্ডনের স্থানীয় পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে আমির আলী চার সন্তানের জনক ছিলেন। তার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে লন্ডনের সাউথএন্ড এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সিলেটের বিশ্বনাথে তার নিজ গ্রামে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের এক আত্মীয় জানান, বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
Leave a comment