ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পথ হারানো এক নারীকে সাহায্যের কথা বলে অপহরণের পর দুই দফায় মোট ছয়জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) দিবাগত রাতে উপজেলার শিমুলতলী সংলগ্ন একটি বিলের ধারে ও পরবর্তীকালে একটি বাড়িতে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ নির্যাতিতা নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং বর্তমানে তিনি ও তার আহত শিশুটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী (২৮) জানান, গত রোববার বিকেলে তিনি ময়মনসিংহে তার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ভালুকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিশুকন্যাকে নিয়ে রওনা হন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গেলে তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। এসময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়কের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাত বাড়ার সাথে সাথে তাকে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকার একটি বিলের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজন ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মায়ের এই করুণ দশা দেখে তিন বছরের শিশুটি চিৎকার শুরু করলে ঘাতকরা তাকে থামানোর জন্য নৃশংসভাবে আঘাত করে। প্রথম দফার পাশবিকতা শেষে সেখানে উপস্থিত আরও দুইজন তাকে নিকটস্থ একটি বাড়িতে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে।
গভীর রাতে ওই নারী তার আহত শিশুকে নিয়ে শিমুলতলী বাজারে এসে কান্না করতে থাকলে সুজন মিয়া নামক এক ইজিবাইক চালক তাকে দেখতে পান। সুজন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, “নারীর বর্ণনা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। আমি তাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই এবং পরে মতি মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করি।” মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে প্রাথমিক সেবা এবং খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন।
মানবিক এই আশ্রয়ের খবর জানাজানি হলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, জনৈক কাজল মিয়া নামক এক যুবক ওই নারীকে নিজের আত্মীয় দাবি করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু ভুক্তভোগী তাকে চিনতে না পারায় সে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীকালে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া আশ্রয়দাতা মতি মিয়ার পরিবারকে হুমকি প্রদান করেন। কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন বলে জানা গেছে।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় নিজের সঠিক পরিচয় দিতে পারছেন না। তবে তার বর্ণনা থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে তিনি ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে।
ওসি আরও জানান, “নারী ও শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার ভুক্তভোগীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment