লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মো. রিমন (১৪) নামের এক দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর বয়স মাত্র ১৪ বছর ২ মাস হলেও মামলার এজাহারে তার বয়স বাড়িয়ে ১৯ বছর লেখা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রব সুমন। বিজ্ঞ আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কারাগারে পাঠানো রিমন রামগতি উপজেলার চর মেহার আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং চর রমিজ ইউনিয়নের চরমেহার গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে সকালে চরনেয়ামত এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্রের নিচে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে উসকানিমূলক স্লোগানসহ ঝটিকা মিছিল করে এবং তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। এ ঘটনায় গত ৪ জুন রামগতি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে রিমনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে রিমনের নাম ‘বাচ্চু প্রকাশ রিপন’ উল্লেখ করে বয়স ১৯ বছর লেখা হলেও রিমনের প্রকৃত নাম ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে এজাহারের তথ্যের বড় ধরনের অমিল দেখা যায়। পরবর্তীতে আদালতে সোপর্দ করার সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান তার নাম সংশোধন করে বয়স ১৩ বছর ১১ মাস ২৯ দিন হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রব সুমন জানান, রিমন একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু শিক্ষার্থী হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে সে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হওয়ায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুসারেই প্রতিবেদনে বয়স উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
Leave a comment