যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠক ভেস্তে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুই পক্ষই পরোক্ষভাবে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও সরাসরি বৈঠকে অগ্রগতি হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে আলোচনার মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য দীর্ঘ সফর বা বৈঠকের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হলে ফোনেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে তিনি স্বীকার করেন, আলোচনার পরিবেশ এখনো পুরোপুরি অনুকূল নয়।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে ইরান আলোচনায় বসবে না। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক আচরণ ও ধারাবাহিক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তার ভাষায়, ওয়াশিংটন যদি চাপ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ না করে, তাহলে কোনো ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এর আগে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে কিছু পর্যায়ে ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘ আকাশপথ ভ্রমণের কারণে সফরটি বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সরাসরি সফরের পরিবর্তে টেলিফোনে আলোচনা করা যেতে পারে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা জোরদার হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment