দিনাজপুর শহরের একটি মেস থেকে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোস্তারিনা আক্তার। তিনি দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শহরের ওই মেসের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তারিনা আক্তার পড়াশোনার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে দিনাজপুর শহরের ওই মেসে বসবাস করছিলেন। মঙ্গলবার বেলা গড়িয়ে গেলেও তার কক্ষের দরজা না খোলায় সহপাঠী ও মেসের অন্য বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোস্তারিনা আক্তার নিজ কক্ষে নিজের ওড়না ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে আপাতত কোনো চিরকুট বা সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নিহত মোস্তারিনা আক্তারের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুবাড়ি গ্রামে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত দিনাজপুরে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মোস্তারিনা নিয়মিত পড়াশোনা করতেন এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোনো মানসিক চাপ বা পারিবারিক সমস্যার কথা জানাননি বলেও দাবি করেন তারা।
Leave a comment