শাহ শাহিদুন নূর ইসলাম, সম্পাদক – ব্রিট বাংলা মিডিয়া | রাজনীতিতে কথার মূল্য সবচেয়ে বেশি—এটা সত্য। তবে সেই কথা কত দিন টেকে, সেটা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। আর হাসনাত আবদুল্লাহ মহাশয় আমাদের সেই অমূল্য শিক্ষাটিই দিচ্ছেন, একদম বিনামূল্যে।
আমি সরকারি গাড়ি নেব না।
নির্বাচনের পরপরই তিনি বুক ফুলিয়ে ঘোষণা দিলেন—“আমি সরকারি গাড়ি নেব না।” বাহ! কী অসাধারণ ত্যাগ! জনগণ আবেগে আপ্লুত হয়ে গেল। অনেকে ভাবলেন, এই বুঝি এক নতুন যুগের সূচনা হলো। একজন নেতা, যিনি সত্যিই সরল, সত্যিই নৈতিক—গাড়িও চান না, কিছুই চান না!
কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর। কিছুদিন পর সংসদে তিনি সরকারের কাছে গাড়ি চাইলেন। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। সেই গাড়ি, যা তিনি নেবেন না বলেছিলেন। মনে হচ্ছে হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা হয়ে গেছে, অথবা রিকশার ভাড়া বেশি পড়ছে।
কিছুদিন পর সংসদে তিনি সরকারের কাছে গাড়ি চাইলেন। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। সেই গাড়ি, যা তিনি নেবেন না বলেছিলেন।
অবশ্য রাজনীতিতে অবস্থান পরিবর্তন একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং পরিশীলিত শিল্প। একে বলে “পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো”। সাধারণ মানুষ যেটিকে বলে “এক মুখে দুই কথা”, রাজনীতিবিদরা সেটিকে বলেন “বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন।” কত সুন্দর ভাষা, তাই না?
বাংলাদেশের জনগণ অবশ্য এই খেলায় বেশ অভিজ্ঞ। প্রতিটি নির্বাচনের আগে তারা দারুণ সব প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখেন, এবং নির্বাচনের পরে সেগুলো কোথায় যায়, সেটি খোঁজার চেষ্টাও আর করেন না। এটা এখন একটি জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
তবে নতুন প্রজন্ম নাকি এখন ‘সচেতন’। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নও দেখতে চায়। বেচারারা! এত বড় আশা নিয়ে রাজনীতির দিকে তাকাচ্ছে—কেউ তাদের বলুক, এই দেশে আশা রাখাটাও একটি সাহসের কাজ।
হাসনাত আবদুল্লাহ মহাশয়ের কাছে অনুরোধ—অন্তত একটু ব্যাখ্যা দিন। বলুন, কেন মত বদলালেন। জনগণ বুঝবে। তারা সব সময়ই বোঝে। শুধু ভুলে যায় একটু তাড়াতাড়ি—পরের নির্বাচন আসতে আসতে।
শেষ কথা হলো—রাজনীতিতে ভুল হয়, অবস্থান বদলায়, প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, প্রতিবারই জনগণকে বলা হয়—“এবার আলাদা হবে।”
এবং প্রতিবারই হয়— ঠিক আগেরবারের মতোই।
Leave a comment