রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক তথ্য। পরিবারের চার সদস্যের কারো সাথেই ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে শনিবার রাতে সরাসরি ওই বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী। ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখতে পান বোন, দুলাভাই ও ভাগনে-ভাগনির বীভৎস ও ছড়ানো-ছিটানো নিথর দেহ।
স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাতে প্রীতিলতা চক্রবর্তী, স্বামী গণপতি চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী (প্রার্থী) চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মোবাইল নম্বরগুলোতে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে পূজা চক্রবর্তী ও তাঁর স্বামী সরাসরি মাসুয়াপাড়ার ওই বাড়িতে যান। পুরো বাড়ি অন্ধকার এবং কলিং বেল না বাজায় সন্দেহ বাড়ে। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় পাশের একটি বাড়ির প্রাচীর টপকে থাই গ্লাস ঠেলে মোবাইলের আলো জ্বালতেই পুরো ঘরের আলমারির ড্রয়ার ভাঙা এবং পোশাক-আশাক তছনছ অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পূজা চক্রবর্তী বলেন, “ঘরে ঢুকে দেখি আমার ছোট ভাগনের লাশ খাটের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। আমার বড় বোন ও ভাগনিকে সিঁড়ির ওপর ফেলে রেখেছে। আমার দুলাভাই একজন ভালো মানুষ ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষাবিদ ছিলেন। এত কষ্ট করে গড়া পরিবারটাকে এভাবে শেষ করে দিল! আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিখোঁজ সদস্যদের না পেয়ে রাতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস এসে মেইন গেট ও ঘরের প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা করে। রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, নিহতদের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং পুরো ঘর তছনছ করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে।
Leave a comment