অতি বৃষ্টির কারণে পথ ভুলে ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ চলে এসেছে বলে ধারণা করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার সকালে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর এলাকায় শরিয়ত উল্লাহর ঠেলা জালে প্রায় এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়ে।
শরিয়ত উল্লাহর বাড়ি উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার চর গ্রামে। বাড়ির পাশেই ব্রহ্মপুত্র নদ। শখের বশে তিনি মাঝেমধ্যে ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরেন। শুক্রবার সকালে নদে মাছ ধরার সময় তাঁর জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। এ সময় বাইন, টাকি, চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছও জালে ওঠে।
শরিয়ত উল্লাহর মেয়ের জামাই আতিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জয় ইলিশসহ ধরা পড়া মাছের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও মৎস্যবিজ্ঞানী ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মেঘনা নদীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে আসে। মেঘনা নদীর সঙ্গে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সংযোগ থাকায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে কোনোভাবে ইলিশটি ব্রহ্মপুত্রে চলে আসতে পারে।
ইয়াহিয়া মাহমুদের ভাষ্য, ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশের খাবার উপযোগী প্ল্যাঙ্কটনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এ কারণে এখানকার ইলিশ মেঘনার ইলিশের মতো স্বাদু নাও হতে পারে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে ইলিশ প্রজননের জন্য সাগর থেকে নদ-নদীতে আসে।
ঈশ্বরগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান বলেন, ইলিশ মূলত অ্যানাড্রোমাস প্রজাতির মাছ। জীবনের বড় একটি সময় সাগরে কাটালেও প্রজননের সময় তারা সাগর থেকে নদীর দিকে অভিপ্রয়াণ করে। পানির পরিবেশ ও নদীর প্রবাহ অনুকূলে থাকলে ইলিশ নদীর অনেকটা উজানেও যেতে পারে। তাই ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়; এটি ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র ও অভিপ্রয়াণের অংশ।
আতিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জয় বলেন, ‘আমার শ্বশুর শখের বশে নদীতে ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরতে নামেন। তখন জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। সঙ্গে বাইন, টাকি, চিংড়িসহ আরও কয়েক ধরনের দেশীয় মাছও উঠেছে।’
Leave a comment