বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে দিনটি শুরু করেছিলেন অপু দাশ (২৯)। শুক্রবার বিকেলে বাগোয়ানের গঙ্গা মন্দিরে পাত্রী দেখা ও বিয়ের প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই আনন্দ পরিণত হয় শোকে। হাসপাতালের দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। ফলে বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না রাউজানের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এই কর্মকর্তার।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাঙ্গুনিয়ায় নিজ বাড়ির শ্মশানে অপুর সৎকার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাঘার বাড়ির মৃত বাদল দাশের একমাত্র ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ছিলেন মায়ের একমাত্র অবলম্বন। কর্মস্থলেও সহকর্মীদের কাছে আস্থাভাজন ছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব পালন শেষে নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অপু। কিছুক্ষণ পর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তাঁকে মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (বিপণন) এপেক্সিয়ান মৃণাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপুকে মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি গাড়ি তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
তিনি বলেন, আহত অপুকে উদ্ধার করে প্রথমে দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃণাল কান্তি বড়ুয়া আরও বলেন, অপু তাঁদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো হাসপাতাল পরিবার শোকাহত। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, শুক্রবার বিকেলেই বাগোয়ানের গঙ্গা মন্দিরে তাঁর বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বিয়ের কথাবার্তাও হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পরই সেই আনন্দ শোকে পরিণত হয়।
এদিকে অপুর মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তাঁর মা শোকে ভেঙে পড়েছেন। যে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলার কথা ছিল, সেখানে এখন চলছে কান্নার আহাজারি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আপত্তি না থাকায় নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
Leave a comment