জাপানের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় প্রথম মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা, দ্বিধা ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাজধানী টোকিও থেকে গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বের শান্ত এই শহরে প্রস্তাবিত উপাসনালয়টি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই জনমত স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই মসজিদ নির্মাণের ফলে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিবেশ ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত মসজিদটি নিকটবর্তী একটি ঐতিহ্যবাহী শিন্তো মন্দিরের চেয়ে আকারে অনেক বড় হবে এবং এটি এলাকার স্বাভাবিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়-এমন অভিযোগে রেলস্টেশনের কাছে হাজারো মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নরিকো ইজুমিজাওয়ার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোতে অভিবাসন সংক্রান্ত যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা দেখে এই অঞ্চলে বিদেশি বা মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির সামাজিক প্রভাব নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, বহু বছর ধরে জাপানে বসবাসরত শ্রীলঙ্কান ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিদীন ও স্থানীয় অন্য মুসলিম প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাস্তব জীবনে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক আচরণের চিত্র তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী আক্রমণের পাশাপাশি মসজিদে এসে গালিগালাজ কিংবা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার ঘটনাও ঘটছে। সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ জানান, এই অচলাবস্থা দূর করতে জাপানে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়কে স্থানীয় আইন-কানুন, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানের জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে বর্তমানে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা রেকর্ড ২৫ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে এবং ২০১৯ সালের ২ লাখ ৩০ হাজার মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে বর্তমানে চার লাখ ছাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার একদিকে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ালেও বড় পরিসরে অভিবাসন রুখতে ভিসা ফি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি ও কঠোর অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে দু’পক্ষের মধ্যেই নিয়মিত সংলাপ বৃদ্ধি ও সামাজিক যোগাযোগ শক্তিশালী করার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
Leave a comment