মো: গোলাম কিবরিয়া , রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ৪৬ বছর বয়সী এক নারীকে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে বাড়ি লুটপাট এবং পরবর্তীতে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত মুরাদ উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার বিএনপি কর্মী মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। মামলার এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ১ জুন তিনি ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেখানে ওঠেন। ৪ জুন রাত ৯টার দিকে এক কিশোরকে (১৬) ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে আটকে রাখে। এরপর ওই নারীর সঙ্গে তাকে জড়িয়ে অনৈতিক কাজের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে আসামিরা জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর এবং ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন লুট করে। লুটপাটের পর জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ওই নারীকে বাড়ির ভেতরেই ধর্ষণ করেন। এরপর শ্রমিক দল নেতা ফিরোজ ভুক্তভোগীকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে বিএনপি কর্মী মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে পুনরায় ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ফিরোজ তাকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দিলে ভুক্তভোগী নারী ভ্যানযোগে নাটোরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে যান এবং স্বজনদের সহায়তায় আইনগত ব্যবস্থা নেন।
তবে ধর্ষণের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রধান আসামিদের একজন মো. ফিরোজ। মুঠোফোনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওই নারীর বাড়িতে এক কিশোর অনৈতিক কাজ করতে গেলে এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে ধরে। পরে রাতেই ওই নারীকে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমি মানবিক কারণে তাকে মোটরসাইকেলে করে বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলাম। এখানে কোনো লুটপাট বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। গ্রামছাড়া করার ক্ষোভ থেকে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, “অভিযোগের সত্য-মিথ্যা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
Leave a comment