ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে মিঠুন চক্রবর্তীকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কথা জানায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি বিভাগের উপদেষ্টা নিয়োগ করা হলো মিঠুন চক্রবর্তীকে, যা মন্ত্রীর পদমর্যাদার।’ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তাঁর কার্যকাল শুরু হয়েছে।
মিঠুনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির নেতাদের প্রশংসা করতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জনসভা, রোড শো ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও অংশ নেন এই অভিনেতা।
নির্বাচনের পর বিজেপির নেতারা মিঠুনের প্রচারের প্রশংসা করেন। দলের পক্ষে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা তখন থেকেই শুরু হয়।
মিঠুন চক্রবর্তীও নির্বাচনের পর বিজেপির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজ্যের জন্য এর চেয়ে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি ভবিষ্যতেও শুভেন্দু অধিকারীর পাশে থাকার কথা জানান।
মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু অবশ্য বিজেপি দিয়ে নয়। ষাট ও সত্তরের দশকে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করেন।
২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন মিঠুন। এরপর ২০২১ সালের ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ওই বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হয়ে ব্যাপক প্রচারে অংশ নেন এই অভিনেতা।
এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিঠুন। মন্ত্রীর পদমর্যাদার এই দায়িত্বে তিনি রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন কাজে সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।
Leave a comment