নেপালের পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ এক বাস দুর্ঘটনায় সাতজন ভারতীয় তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে থাকা সব যাত্রীই ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় গোর্খা জেলার কান্তার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা নেপালের প্রসিদ্ধ মনকামনা মন্দির-এ পূজা শেষে একটি ছোট বাসে করে ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি প্রায় পাঁচশ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।
রাজকুমার শ্রেষ্ঠা, গোর্খা জেলা পুলিশের উপ-অধীক্ষক, জানান দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিতওয়ান জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানায়, বাসটিতে মোট ১৪ জন যাত্রী ছিলেন এবং সবাই ভারতীয় তীর্থযাত্রী। নিহতদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন মুথু কুমার (৫৮), আনামালিক (৫৮), মীনাক্ষী (৫৯), শিবগামী (৫৩), বিজয়াল (৫৭), মিনা (৫৮) এবং তামিলারসি (৬০)।
গোর্খা জেলার মুখ্য জেলা প্রশাসক তুলসি বাহাদুর শ্রেষ্ঠা জানান, বাসটি আনবুখাইরেনির দিকে যাচ্ছিল। ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নেপালে এর আগেও ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে একটি বাস দুর্ঘটনায় ২৭ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নেপাল ট্রাফিক পুলিশ-এর তথ্য বলছে, ২০১৪–১৫ সালে যেখানে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার, সেখানে ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে সাত হাজারের বেশি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ও সংকীর্ণ সড়ক, যানবাহনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়ক সংস্কারের ঘাটতিই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
Leave a comment