নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বৈদ্যুতিক পাম্প থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শেহারচর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন শেহারচর এলাকার বাসিন্দা আমির আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীন (৫০) ও তাদের মেয়ে লামিয়া আক্তার (২৪)। লামিয়া স্থানীয় সরকারি তোলারাম কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শেহারচর এলাকায় বৃষ্টির কারণে বাড়ির পেছনে পানি জমে যায়। পানি সরাতে শনিবার সন্ধ্যায় বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প ব্যবহার করেন রোকসানা পারভীন ও তার মেয়ে লামিয়া। এসময় পাম্পের সংযোগ তার লিকেজ হয়ে রোকসানা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
মাকে বাঁচাতে ছুটে গিয়ে লামিয়া তাকে ধরলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে বাসায় ফিরে রোকসানার স্বামী আমির আলী স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির পেছনে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “দুটি মরদেহ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) কাজী আবুল বাসার জানান, শেহারচর এলাকা নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টির পানি টিনশেড ঘর পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সেচ পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পাম্পের তারে বৈদ্যুতিক লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
Leave a comment