নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ। নিহতদের বেশিরভাগই কৃষক ও জেলে ছিলেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) নাইজেরিয়ার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যাজেন্সি (সেমা) এই তথ্য জানায়। একই সঙ্গে রাজধানী মাইদুগুরি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ করে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাডুবির ঘটনাটি শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ঘটে।
ইয়োবি রাজ্যের স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যাজেন্সির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ গোজে এএফপিকে জানান, জিগাওয়া রাজ্য থেকে ইয়োবি রাজ্যের দিকে যাওয়ার পথে একটি সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকা হঠাৎ করে উল্টে যায়। নৌকাটিতে কৃষক ও জেলেসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন, যারা নদীপথে যাতায়াত করছিলেন।
গোজে বলেন, “এখন পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ১৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর নৌকায় থাকা অন্তত ১৩ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। এছাড়া গভীর রাত ও নদীর তীব্র স্রোত দুর্ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। যদিও নৌকাডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় নদীপথে চলাচলই মানুষের প্রধান ভরসা। সড়ক যোগাযোগ দুর্বল হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে যাতায়াত করতে বাধ্য হন। বিশেষ করে কৃষক ও জেলেরা রাতের বেলায় পণ্য পরিবহন ও জীবিকার তাগিদে নদী পারাপার করেন।
নাইজেরিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, নৌ-পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। তবে নদীর গভীরতা ও প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, ইয়োবি রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে প্রশাসন নৌকাডুবির এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও নাইজেরিয়ায় জলপথে যাত্রী নিরাপত্তার সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
Leave a comment