মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ দেখলে অনেকেরই চোখ আটকে যায় গম্বুজের ওপর থাকা ছোট্ট একটি বিশেষ খোলা অংশে। দূর থেকে এটি সাধারণ কোনো স্থাপত্যের অংশ মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মসজিদে নববীর স্থাপত্য ও ইতিহাসের নানা বর্ণনা।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, গম্বুজের এই খোলা অংশটি ভেতরের স্থাপত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পবিত্র হুজরা শরিফের ওপরের অংশের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। এ কারণে স্থাপনাটির এই ছোট অংশ নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
কিছু ইসলামী ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, একসময় মদিনায় তীব্র খরা দেখা দিলে সাহাবিরা বিষয়টি হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে তুলে ধরেন। তখন তিনি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা শরিফের ওপরের ছাদে আকাশের দিকে একটি খোলা অংশ রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে বর্ণনা রয়েছে। এরপর বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেছিল বলেও কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে বর্তমান সবুজ গম্বুজটি নবীজি (সা.)-এর সময়ের নির্মাণ নয়। ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, রওজা শরিফের ওপর প্রথম গম্বুজ নির্মাণ করা হয় ৬৭৮ হিজরি বা ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে গম্বুজটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়।
১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের শাসনামলে গম্বুজটি সবুজ রঙে রাঙানো হয়। এরপর এটি মুসলিম বিশ্বে ‘সবুজ গম্বুজ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
গম্বুজের ওপরের ছোট এই খোলা অংশ তাই শুধু স্থাপত্যসৌন্দর্যের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মসজিদে নববীর প্রাচীন স্থাপত্য, পবিত্র হুজরা শরিফ এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা জড়িয়ে রয়েছে।
মদিনার আকাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের কাছে শুধু একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মারক।
Leave a comment