মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ
টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়েছে। এতে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়ায় সাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতেও যেতে পারছেন না জেলেরা। এতে তাদের জীবিকাও ব্যাহত হচ্ছে।
দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় অনেকের মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। ফলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “জোয়ারের পানিতে দ্বীপের অনেক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দ্বীপে পণ্যসংকট দেখা দিয়েছে।”
Leave a comment