Home আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ চিরতরে বদলে গেছে
আন্তর্জাতিক

জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ চিরতরে বদলে গেছে

Share
Share


ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি হওয়া তেলসংকট জীবাশ্ম জ্বালানিশিল্পকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ফাতিহ বিরোল এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ এখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক বলেন, চাপ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের উচিত উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসা।

ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরোল বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের একটি বড় প্রভাব হচ্ছে দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আস্থা হারাবে। এ কারণে এর চাহিদাও কমে যাবে।

আইইএ প্রধান বলেন, ‘জ্বালানি খাতের ঝুঁকি ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দেশগুলোর ধারণা বদলে যাবে। এসব দেশের সরকার তাদের জ্বালানি কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্ব আরও বেশি বিদ্যুৎ-নির্ভর ভবিষ্যতের দিকে ঝুঁকবে। এতে তেলের মূল বাজার সংকুচিত হবে।’

ফুলদানি ভেঙে গেছে, যা হওয়ার হয়ে গেছে। ভাঙা টুকরাগুলো জোড়া লাগানো এখন খুব কঠিন। আগামী বহু বছর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর স্থায়ী প্রভাব থাকবে।

এই সংকট কাটিয়ে আগের অবস্থায় ফেরার সুযোগ নেই জানিয়ে ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘ফুলদানি ভেঙে গেছে, যা হওয়ার হয়ে গেছে। ভাঙা টুকরাগুলো জোড়া লাগানো এখন খুব কঠিন। আগামী বহু বছর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর স্থায়ী প্রভাব থাকবে।’

বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট ও ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি আইইএ প্রধান যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তেলশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহযোগীরা উত্তর সাগরে খননকাজ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। বিশেষ করে জ্যাকডো ও রোজব্যাংক তেলক্ষেত্রে অনুসন্ধানের অনুমতি থাকলেও উৎপাদনের অনুমতির জন্য তারা চাপ দিচ্ছে।

ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব তেলক্ষেত্র যুক্তরাজ্যের জ্বালানিনিরাপত্তা বা তেলের দামে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বর্তমান সংকট কাটাতেও এগুলো বড় কোনো ভূমিকা রাখবে না।’ বাণিজ্যিক কারণে নতুন তেল-গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধানের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ফাতিহ বিরোল বলেন, এসব ক্ষেত্র থেকে আগামী বহু বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল বা গ্যাস পাওয়া যাবে না। এগুলো মানুষের খরচও কমাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বাদ দিলেও শুধু ব্যবসার দিক থেকেও তেল-গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বড় বিনিয়োগ করা লাভজনক হবে না।

বিস্তৃত এই সাক্ষাৎকারে আইইএ প্রধান বলেন, জ্বালানি খাতের এই আমূল পরিবর্তন নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জলবায়ু সুরক্ষার অগ্রগতিকে এটি বিপদেও ফেলতে পারে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

গরিব মানুষের ওষুধ নেই

কেরানীগঞ্জের শিকারীটোলা গ্রামের বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন (৫৮) প্রায় ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পরে দুই মেয়ের সংসারে ঠাঁই হয়েছে তার।...

শাহবাগে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির মুখোমুখি, থানার ভেতর মুসাদ্দিকের ওপর হামলা

শাহবাগ থানায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে থানার ভেতর ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর...

Related Articles

প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে বিদেশি সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিলো ভারত

রাশিয়া ও ভারতের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। গত বছর স্বাক্ষরিত এবং...

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অসুস্থ খামেনি ঘিরে ইরানে ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের...

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় দ্বিতীয় দফায় পাকিস্তান সফর ট্রাম্প দূতের

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড...

ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে ৫৬ শতাংশ মার্কিন ভোটারদের সন্দেহ বাড়ছে

কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন ভোটারের মধ্যে...