চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে পুলিশের ছররা গুলিতে দুই চোখের দৃষ্টি হারানো মাহবুব আলম আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসতে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে। জেলা প্রশাসনের বিশেষ আমন্ত্রণে আজ বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ও তাঁর মা হালিমা বেগম ঢাকা এসে পৌঁছেছেন।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে মাহবুব আক্রান্ত হন। ছোট শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে তিনি সরাসরি পুলিশের গুলিবর্ষণের মুখে পড়েন। তাঁর মাথায় ও চোখে বিদ্ধ হয় অসংখ্য ছররা গুলি। দেশে ও দেশের বাইরে (ভারত ও থাইল্যান্ডে) চিকিৎসা করিয়েও মাহবুবের চোখের আলো ফেরানো সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল: মাথায় অবশিষ্ট গুলি ৩২টি ছররা গুলি এখনো মাথার বাঁ পাশে রয়ে গেছে।চোখে অবশিষ্ট গুলি:চোখের ভেতরে রয়ে গেছে ৯টি গুলি। শারীরিক ক্ষতি : চোখের নার্ভ ছিঁড়ে যাওয়া এবং মাথার হাড় ভেদ করে গুলি ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার আশা ক্ষীণ। দৃষ্টি হারানোর পর মাহবুবের জীবনে নেমে আসে চরম ব্যক্তিগত বিপর্যয়।
সব সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হওয়ায় তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে মা হালিমা বেগমই তাঁর একমাত্র সহায়। মাহবুব আলম বলেন, চোখে না দেখলেও সংসদের আলোচনা নিজের কানে তো শুনতে পাব! তবে চোখে দেখতে পেলে আরও ভালো লাগত। ব্যক্তিগত কষ্টের চেয়েও দেশ ও সহযোদ্ধাদের কল্যাণই এখন মাহবুবের কাছে মুখ্য।
তিনি চান: বাংলাদেশ ভালো থাকুক,আন্দোলনে চোখ হারানো অসহায় মানুষদের পাশে যেন সরকার ও দেশের মানুষ সর্বদা থাকে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে মাহবুবকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীকাল অধিবেশন শেষে তাঁকে পুনরায় নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
Leave a comment