প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা বলার ধরন, মানুষের প্রতি দরদ ও আবেগ খুঁজে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই আবেগ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখা গেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, আগের দিন আর্মি স্টেডিয়ামে একটি জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমানের কথা বলার ধরন খুঁজে পেয়েছেন। জিয়াউর রহমান যেভাবে দরদ ও মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন, তারেক রহমানের বক্তব্যেও সেই আবেগ অনুভব করেছেন তিনি।
নুর আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনীতির সুন্দর উপস্থাপনা ছিল। জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন, প্রস্থান এবং মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, তারেক রহমানের বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের ভাষণের সেই অ্যাকসেন্ট ও টোনের প্রতিফলন রয়েছে।
জিয়াউর রহমানের শাসনামল ও দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্য ও সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের পুষ্টির উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল গ্রামের মাটির রাস্তার দুই পাশে ফলদ গাছ লাগানো এবং বাড়িতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহ দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। সবার পক্ষে মাছ, মাংস ও দুধ কেনা সম্ভব হতো না। বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন এবং রাস্তার পাশে ফলদ গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারত।
জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা এসেছিল বলেও মন্তব্য করেন নুর। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও জিয়াউর রহমানের সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়। তিনি আরও কয়েক বছর সময় পেলে দেশের উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন।
বক্তব্যের শেষাংশে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ১৭ বছর ধরে অনেকে নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সবাইকে বুঝতে হবে।
ইত্তেফাক/এনএ
Leave a comment