প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচন করেছে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার যে প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকার তা প্রতিফলিত করছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে। তাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।
তারেক রহমান বলেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে এবং পরবর্তীতে ২০০২ সালে এটি বর্তমান রূপে আসে। তার ভাষায়, এই প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করে যে অতীতে বিএনপি সরকার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবন কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিয়ামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রশাসন মানে শুধু নিয়ম জানা নয়, বরং প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবায় উদ্ভাবনী চিন্তা প্রয়োগ করা। এজন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং একটি সামাজিক চুক্তি। জনগণ যেহেতু ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাই সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কর্মকর্তাদের ভূমিকা শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারা একটি জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার “মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ” গড়তে চায়, যেখানে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও দক্ষতা অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে জনপ্রশাসনকে প্রস্তুত রাখতে হবে। সরকারি সেবাকে ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
শেষে তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উচিত নিজেদের শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে ভাবা।
Leave a comment