গাজার উত্তরের মানসুরা পানি ফিলিং পোর্টে হামলায় একজন ট্রাকচালক নিহত হওয়ার পর সেখানে কার্যক্রম স্থগিত করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এটি গাজা সিটির গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই কেন্দ্রে প্রতিদিন হাজারো মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হতো, যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সংস্থাটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ঘোষণা থাকলেও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা ও হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) পৃথক ঘটনায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলো জানায়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নিয়মিত হামলা ও সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটছে।
অন্যদিকে, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্যোগে ৬০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা।
ইউরোপের কিছু দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন চুক্তি স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নিয়েও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার পুনর্গঠনে আগামী এক দশকে ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। যুদ্ধের কারণে আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
Leave a comment