গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শনিবার অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিদারুণ দুঃখজনক এই হামলায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজাবাসীর ওপর দখলদার বাহিনীর এই ধারাবাহিক নৃশংসতা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম গাজা শহরের একটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে এই ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নিষ্পাপ শিশুসহ তাদের বাবা-মা নির্মমভাবে নিহত হন। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, এই হামলায় পুরো পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে একটি শিশু, যে হামলার সময় বাড়ির বাইরে থাকায় প্রাণে রক্ষা পায়। গাজার ঐতিহাসিক আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আবাসিক ভবনে হামলায় নিহত একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১,১৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একের পর এক হামলার কারণে উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও চরম বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থাকা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন আবাসিক এলাকায় হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
Leave a comment