ওমর ফারুক, কক্সবাজার
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি শান্তি, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ এমন সব কাজ পরিহার করে নিজেকে তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করা। এই আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা গেলে সমাজ থেকে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও ব্যভিচারের মতো অপরাধ দূর হতে পারে। দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে ফুটতে পারে স্বস্তির হাসি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কুরবানির মূল শিক্ষা জীবনে ধারণ করতে না পারায় সমাজে অশান্তি, নৈরাজ্য ও সহিংসতা বিরাজ করছে।
রোববার (৩১ মে) জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন শাখা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফিজ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ রফিক, উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক সৈয়দ সোহরাব হোসেন।
ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ ঈসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় জামায়াত নেতা নূরুল আবছার, লোকমান হাকিম, কাওসার আল মামুন ও মুকশিদ আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কুরবানির ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Leave a comment