ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অক্টোবর থেকে পিছিয়ে এখন নভেম্বরে এ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগের মতো ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে সহায়ক সময়। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষার সময় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগে অক্টোবর ধরে পরিকল্পনা করে এসেছি। এখনো আমরা সব পরিকল্পনা অক্টোবরের মধ্যে শেষ করব। কিন্তু ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা আমাদের এখন নভেম্বরে।’
ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে ইসি জানিয়েছিল, অক্টোবরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে এবং আগস্টের শেষার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে নির্বাচন নভেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনা কেন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন এখনো অক্টোবর ধরে প্রস্তুতির কাজ করছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, বর্ষা, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনই বলা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সময় চূড়ান্ত করবে।
সিইসি আরও বলেন, ‘সরকার নয়, ভোটের তারিখ আমরা ঠিক করব।’ তবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় কমিশন এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আইন ও বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। বর্তমানে ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এ তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
Leave a comment