মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত থামাতে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান থামাতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ আলোচনার উদ্যোগ নিলেও ওয়াশিংটন তা গ্রহণ করেনি। বরং শুক্রবার রাতে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানও আপাতত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেবে না ইরান। সংঘাত থামাতে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখনো তা ফলপ্রসূ হয়নি।
এরই মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।
বর্তমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত দ্রুত থামার সম্ভাবনা কম। বরং সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য আরও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে যেতে পারে।
Seo- ইরান যুদ্ধের খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি, মার্কিন ইরান সংঘাত, হরমুজ প্রণালী সংকট, ইরান ইসরায়েল উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আপডেট, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত
Leave a comment