ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটি সতর্ক করে বলেছে, এই সীমা অতিক্রম করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্থাপনা রক্ষা তাদের জন্য অগ্রাধিকার, এবং এসব বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
রিয়ালের দরপতন, নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা রাজনৈতিক অসন্তোষে রূপ নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি দাবি করেছে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
পশ্চিম ইরান থেকে রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, বিভিন্ন এলাকায় আইআরজিসির সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এখনও ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সীমিত রেখেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের নেতৃত্বকে নতুন করে সতর্ক করেন। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন,“যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।”
ইরান সরকার অবশ্য এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সহিংসতায় ডজনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
বিবিসির সর্বশেষ হিসাবে, দেশজুড়ে বিক্ষোভে মোট ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে— এর মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছে।
ইরানের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে— যেখানে অর্থনৈতিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক অসন্তোষ ও কঠোর সামরিক অবস্থানের সংঘাতে দেশটি গভীর সংকটে নিমজ্জিত।
Leave a comment