বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে এবং ইসলামী ধারার সাংস্কৃতিক দল ‘কাসিদা’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী আহমাদ আতাউল্লাহ সালমান মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে গান গাওয়া স্থায়ীভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সালমান ফেসবুকে লেখেন, “২০২৪ পরবর্তী বিশেষ প্রেক্ষাপটে সংগঠনের কিছু দায়িত্বশীল ভাইয়ের পরামর্শে সাধারণ মানুষের কাছে কাওয়ালির মাধ্যমে একটি নতুন ধারার সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দিতে গঠিত ‘কাসিদা ব্যান্ড’-এ আমি যুক্ত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং কিছু কর্মসূচিতে বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে গান পরিবেশন করেছি। তবে মিউজিকের সঙ্গে আমার এই পরিবেশনা অনেকেই পছন্দ করেননি এবং অনেকে এতে মানসিকভাবে ব্যথিত হয়েছেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী, স্নেহাস্পদ ব্যক্তি ও পরিবার থেকে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে গান পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বারবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই পরামর্শকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং পরিবারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মেনে তিনি বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অতীতে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে গান পরিবেশনের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করে সবার কাছে দোয়ার দরখাস্ত জানিয়েছেন ঢাবির এই সাবেক শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, ‘কাসিদা’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বহু গান, গজল, নাশিদ ও হৃদয়স্পর্শী কাওয়ালি পরিবেশন করে ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয় লাভ করেছিলেন সালমান। তবে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। অবশেষে বাদ্যযন্ত্র ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় ভক্ত ও নেটিজেনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে; যেখানে একটি বৃহৎ অংশ তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
Leave a comment