‘আমরা ইনসাফের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। তাই তোমাদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি নিরাপদ রাখব।’—এ মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখা আয়োজিত এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চলছে। বিভিন্ন সময়ে দেশের নেতৃত্বে অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য মানুষ এলেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। কৃতী শিক্ষার্থীদের সেই কাজে ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জীবনের সফলতা শুধু ভালো ফলাফল বা বড় পদে যাওয়া নয়, একজন ভালো মানুষ হতে পারাও সফলতা। অতীতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সবাই দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ওই সময়ে ক্ষমতায় থাকা অনেক রাজনীতিবিদ মানুষের কল্যাণের বদলে ক্ষতির কারণ হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গুম, হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির প্রসঙ্গে ডাকসুর ভিপি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর তাঁরা ক্যাম্পাসে ‘নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। গণরুম, গেস্টরুম ও সন্ত্রাসের রাজনীতির পরিবর্তে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ডাকসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন সাদিক কায়েম। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা তাঁদের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এ ছাড়া স্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a comment