সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মুরসালিন নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন মুরসালিন। একটি মোটরসাইকেল দেখার পর সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন তাঁর পিছু নিয়ে তাঁকে আটক করেন। এ সময় মুরসালিন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে মুরসালিনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই হেতিমগঞ্জ বাজারে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে ভুল বুঝে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন।
ঘটনার সময় মুরসালিনের সঙ্গে ছিলেন ওলিউর ইসলাম। তিনি নিজেকে মুরসালিনের দাদা বলে পরিচয় দেন। ওলিউর জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল কিনবেন বলে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে আসেন। পরে মুরসালিন মোটরসাইকেল দেখার কথা বলে তাঁকে রেখে চলে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে ভয়ে তিনি মুরসালিনকে চেনেন না বলে জানান।
পুলিশ পরে ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, মুরসালিন চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যান। ছুটি শেষ হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরসালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলী বলেন, মুরসালিন মোটরসাইকেল কেনার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে এসেছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ওলিউর ইসলাম নিজেকে মুরসালিনের দাদা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর আচরণ স্বাভাবিক ছিল না বলে ওই সূত্রের দাবি। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
Leave a comment