ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের হোশিয়ারপুর জেলায় নিজ স্ত্রীকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক জওয়ানের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করতে নিহতের দেহ ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেছে বলে পরিকল্পিত নাটক সাজানোর অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
নিহতের স্বজনদের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমরজিৎ সিং গত ১৩ আগস্ট রাতে সাময়িক ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসেন। বাড়ি ফেরামাত্রই পারিবারিক কলহের জেরে তিনি তাঁর স্ত্রী রামার ওপর বেপরোয়া শারীরিক নির্যাতন চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত ও সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে ১৪ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নিহতের পিতালয় পরিবারকে জানানো হয় যে, রামা অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন এবং তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে রামাকে ইতোমধ্যে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
মৃত্যুর পর নিহতের শরীরে একাধিক শারীরিক আঘাতের সুস্পষ্ট দাগ দেখে স্বজনদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাঁদের অভিযোগ, নির্মম পিটুনির বাস্তব ঘটনা আড়াল করতেই ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার মনগড়া গল্প তৈরি করা হয়েছিল। নিহতের বাবা রাম চাঁদ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রধান অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমরজিৎ সিং, তাঁর চাচা কুলদীপ কুকি এবং চাচি সোনিয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মূল অভিযুক্ত জওয়ান অমরজিৎ সিংকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়েছে; তবে ঘটনার পর থেকে অপর দুই অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছে। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) হরপ্রেম সিং জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাঁর পৈতৃক গ্রামে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুরো ঘটনাটির নিখুঁত তদন্ত ও পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment