পারস্য উপসাগর, ঐতিহাসিক হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চল থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক জাহাজ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী ফাদাভি। ১৮৫৩ সালের পর এই প্রথম সংবেদনশীল এই সমুদ্রসীমায় কোনো আমেরিকান যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানি সামরিক শক্তির মুখে বাধ্য হয়ে সীমান্ত থেকে অন্তত এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এক বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা দলের প্রধান আলী ফাদাভি জানান, গত কয়েক মাস ধরে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আমেরিকান বাহিনী তাদের নিজেদের স্বেচ্ছায় অঞ্চল ছেড়ে যায়নি; বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর অভাবনীয় শক্তি, প্রতিরোধ সক্ষমতা ও কঠোর পদক্ষেপের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্বের সার্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর এই উত্তেজনার প্রভাব উল্লেখ করে আইআরজিসি উপদেষ্টা বলেন, স্বাভাবিক সময়ে এই আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে দিনে প্রায় দুই কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হতো, যা বৈশ্বিক মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে বর্তমানে আইআরজিসির কড়া নজরদারি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়তে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে ফাদাভি সতর্ক করেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করলে আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রই চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বর্তমানে আইআরজিসি নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনীর জন্য সহজ ও উন্মুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইতিপূর্বেও আমেরিকান বাহিনী একাধিকবার হরমুজ প্রণালিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শারীরিক বা সামরিক উপস্থিতি বজায় না রেখে কেবল দূর থেকে হামলা চালিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর সম্ভব হবে না।
Leave a comment