দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের নিকটবর্তী একটি আবাসিক এলাকায় বন্দুকধারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে দেশের কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বসতবাড়িতে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বাড়িতে ১৩ জন পুরুষ ও ১ জন নারী একত্রিত হয়ে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। এ সময় তিন সশস্ত্র বন্দুকধারী হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি ৪ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১ জন মারা যান।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নিহতদের কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় ও অপরাধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট না হলেও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী চক্রগুলোর আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক আন্তর্জাতিক টেলিভিশন প্রতিবেদক জানান, হামলাকারীরা নারকীয় এ তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে নিহতদের একজনের ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সেখান থেকে পোড়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে অপরাধ ও প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি, দক্ষিণ আফ্রিকা তার মধ্যে অন্যতম। দেশটির সরকারি হিসাব মতে, সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক সপ্তাহে অন্তত নয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এবং ইতিপূর্বে পানশালায় ঘটে যাওয়া বন্দুক হামলার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা দেশটির ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম রূপ তুলে ধরেছে।
Leave a comment