মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সৌদিফেরত এক ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি ঘোনাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন সৌদিপ্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী সানজিদা আক্তার প্রিয়াঙ্কা (২৫) এবং তাঁদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা। প্রিয়াঙ্কা সিংগাইর উপজেলার মোহাম্মদ মহসিন খানের মেয়ে। তিনি একরামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে একরাম তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে একটি চৌচালা টিনের ঘরে ঘুমাতে যান। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা টিনের একটি অংশ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে একরামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে তিনজনের মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, প্রিয়াঙ্কার মরদেহ ঘরের মেঝেতে, মেয়ে আলিজার মরদেহ খাটের ওপর এবং একরামের মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে প্রিয়াঙ্কার পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রিয়াঙ্কার মা আফরোজা বলেন, একরামের নির্যাতনের কারণে তাঁর আগের স্ত্রী চলে গিয়েছিলেন। তিন বছর আগে একরাম প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। ঘটনার দুই দিন আগে প্রিয়াঙ্কা মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন, স্বামীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়েছে।
একরামের ভাই ওয়াসিম বলেন, তাঁরা চার ভাই। তিন ভাই বিদেশে থাকেন। দুই মাস আগে একরাম দেশে ফেরেন। অধিকাংশ সময় তিনি বাড়িতেই থাকতেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল বলে তাঁরা জানতেন না।
পুলিশ কর্মকর্তা মহরম আলী বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a comment