নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ২২ জুলাই বিকেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হলেও তিনি নিজেকে এখনো জামায়াতের এমপি বলেই মনে করছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, নথিপত্রে ও খাতাকলমে তাঁর জামায়াত সদস্যপদ এখনো বহাল রয়েছে।
নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সার্বিক বিবেচনায় তিনি নিজেকে জামায়াতের সদস্য মনে করেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরপরই তাঁর সংসদ সদস্য পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টির আইনি ব্যবস্থার জন্য জানানো হয়েছে। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের একটি ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই ভিডিওর ভিত্তিতে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলটি। বর্তমানে তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকা না-থাকা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা চলছে।
Leave a comment