বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ জন শীর্ষ নেতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে বাজেয়াপ্তকৃত মোট সম্পত্তির ৫০ শতাংশ সম্পদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের মাঝে বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ে এই যুগান্তকারী অনুশাসন দেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য সদস্য দুজন হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়া পাঁচ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন যে, রাষ্ট্রায়ত্ত করা এসব সম্পদ ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ কিংবা সমমানের উপযুক্ত বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাতালিকায় থাকা আহত ও শহীদ পরিবারের মাঝে সুনির্দিষ্টভাবে বণ্টন করতে হবে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান থাকলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম কোনো রায়ে ৫০ শতাংশ সম্পদ সরাসরি ক্ষতিপূরণ হিসেবে শহীদ ও আহতদের দেওয়ার অভূতপূর্ব নির্দেশনা আসলো। আইন অনুযায়ী, আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করা হলে সরকারের জন্য এই ঐতিহাসিক রায় ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
Leave a comment