ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনঘেঁষা কাহালগাঁও গ্রামে পরিবেশ দূষণের চরম খেসারত দিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বনাঞ্চলের জমি জবরদখল করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক মুরগির খামার এবং ঢাকনাবিহীন লড়িতে খোলা অবস্থায় বিষ্ঠা পরিবহনের কারণে এলাকাটিতে চর্মরোগ আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। কাহালগাঁও ও কামারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাহালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাহালগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসাসহ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মারাত্মক শরীর চুলকানি এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এনায়েতপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে অবস্থিত কাহালগাঁও গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। সংরক্ষিত গজারী বন ধ্বংস করে সেখানে ১০ থেকে ১২টি বাণিজ্যিক বায়লার মুরগির খামার গড়ে তোলা হয়েছে। সিপি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন খামার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ১৫ থেকে ২০টি উন্মুক্ত লড়িতে করে মুরগি ও বিষ্ঠা মৎস্য খামারে পরিবহন করা হয়। পরিবহনকালে দুর্গন্ধযুক্ত বিষ্ঠা বাতাসে মিশে বায়ু ও চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। অভিযোগে উঠে এসেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে একটি চক্র এই অনিয়ন্ত্রিত বিষ্ঠা বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত।
দূষণের প্রভাব পড়েছে গ্রামটির সার্বিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের শরীরে ছোঁয়াচে এই চুলকানি ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও মিলছে না নিরাময়। বন বিভাগ জানায়, বিট কার্যালয়ের বাধা তোয়াক্কা না করেই বনের জমিতে এসব খামার তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি এলাকাটি থেকে অস্বাভাবিক হারে চুলকানির রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে, যা গভীর পরীক্ষার দাবি রাখে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
Leave a comment