দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির ফাঁকে অল্প খরচে ক্ষুধা মেটাতে এক কাপ চা, কলার সঙ্গে এক পিস পাউরুটি, বাটার বান, কেক কিংবা দুই পিস বিস্কুটই ভরসা অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের। সেই সস্তার নাশতাতেও এবার বাড়তে যাচ্ছে খরচ। ময়দা, চিনি, তেল ও ডালডার দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেকারি মালিকেরা। আজ শনিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা।
হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কম দামের ছোট পাউরুটি, কেক ও বিস্কুটের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আকার ও ওজন কমানোরও পরিকল্পনা রয়েছে কিছু বেকারি মালিকের।
গতকাল শুক্রবার ভ্যাপসা গরমের মধ্যে রিকশা চালানোর ক্লান্তি কাটাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার শহীদ শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন মো. জাকির হোসেন। দুপুরে খাওয়ার সময় পাননি। তাই এক কাপ চায়ের সঙ্গে এক পিস কেক চেয়েছিলেন এই প্রবীণ রিকশাচালক। দোকানি জানান, পাউরুটি ও কেক নেই। সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আজ শনিবার থেকে দাম বাড়বে বলে বেকারি থেকে পণ্য দেওয়া হচ্ছে না। পরে চায়ের সঙ্গে দুই পিস বিস্কুট নেন জাকির।
আক্ষেপ করে জাকির হোসেন বলেন, ‘সস্তার রুটি-কেকেও এখন খরচ বাড়ব!’
জাকির হোসেন বলেন, অটোরিকশার দৈনিক জমা দিতে হয় ৫০০ টাকা। দুই বেলার খাবারে খরচ হয় প্রায় ২০০ টাকা। এসব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক গড়ে ৫০০ টাকা আয় করাও কঠিন। কামরাঙ্গীরচরে বাড়িভাড়া ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে পরিবারের বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। বাইরে খাবারের খরচ বাঁচাতে প্রায়ই কলা, রুটি ও কেক খেয়ে থাকেন। কারণ, এগুলোর দাম তুলনামূলক কম। এখন এসব পণ্যের দাম বাড়লে তাঁর মতো মানুষের চলা কঠিন হয়ে যাবে।
চায়ের দোকানি মো. সুজন বলেন, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুরের দুটি বেকারি থেকে তাঁর দোকানে পণ্য আসে। গত দুই দিন ধরে তারা পণ্য দিচ্ছে না। একটি বেকারি অল্প কিছু বিস্কুট ও গোল রুটি দিয়েছিল, যা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। বেকারির পক্ষ থেকে গ্যাসসংকটের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আজ শনিবার থেকে দাম বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।
চায়ের দোকানে বিক্রি হওয়া পাউরুটি, বাটার বান ও কেকের আকার ও ওজন কমতে পারে—এমন খবরে দোকানের সামনে বসে থাকা কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দিনমজুর মো. সামসুল আলম বলেন, ‘পাউরুটি-কেকগুলো এমনিতেই তো ছোট। আর কত ছোট হইবো? এইগুলাই তো পেটে লাগে না। জিনিস কম, ফুলাইয়া বড় বানাইছে। আরও ছোট হইলে তো দুই পিস খাইতে হইবো। তাতে তো আরও বেশি খরচ পড়বো।’
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষও। পল্লবীর বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. এনামুল হক বলেন, মেয়ের স্কুলের টিফিনসহ বাসার নাশতায় পাউরুটি, কেক, ড্রাই কেক ও বিস্কুটের মতো বেকারি পণ্য কিনতে হয়। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে বেকারি পণ্যের দাম বাড়লে তাঁদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
কদমতলী এলাকার বৈশাখী কনফেকশনারির মালিক মো. জেবিন বলেন, দুই দিন ধরে সেবা, মেগা ও প্রাইমসহ কয়েকটি বেকারি সব ধরনের পণ্যের সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তারা জানিয়েছে, শনিবার থেকে নতুন দামে পণ্য সরবরাহ করা হবে।
‘উৎপাদন খরচ বেড়েছে’
বেকারি মালিকেরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি করপোরেট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পণ্যের দাম সমন্বয় করতে হচ্ছ
Leave a comment