ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পরকীয়া-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। ৪ আগস্ট সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্থানীয় থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল কাজ শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা চলছিল। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর আলামত নষ্ট ও তথ্যপ্রমাণ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার আসামি আসাদুল শেখের ঘর থেকে একটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। উদ্ধার করা আলামত ও আসামিদের জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a comment