বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবী চরম আবহাওয়ার এক বিপজ্জনক যুগে প্রবেশ করছে। খবর বিবিসির।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি গত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের এক প্রান্তে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে, অন্যদিকে বয়ে যেতে পারে শক্তিশালী টাইফুন ও ভয়াবহ বন্যা। বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা যুক্ত হয়ে তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো অস্বাভাবিক আকার ধারণ করছে। বিজ্ঞান নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই, পৃথিবী এখন জলবায়ুর এক অজানা ও উত্তপ্ত সীমানায় পা রেখেছে।’
এল নিনোর প্রভাবে প্রাণহানি, মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের পরামর্শে বিভিন্ন দেশ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের কাছে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। এর ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
Leave a comment