নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার চার দিন পর গিরং ইমিগ্রেশন সেন্টারে পৌঁছেছে চীনা উদ্ধারকারী দল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা দেখতে পান, বিশাল পানির স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে পুরো সীমান্ত কমপ্লেক্সটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
গিরং যাওয়ার অধিকাংশ সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২১ সদস্যের চীনা উদ্ধারকারী দলকে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। প্রশিক্ষিত একটি সার্চ ডগকে সঙ্গে নিয়ে তারা বন ও খাড়া পাহাড় অতিক্রম করে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সীমান্ত কমপ্লেক্সে পৌঁছান।
উদ্ধারকর্মী জোউ মিংকি বলেন, সেখানে যাওয়ার কোনো সড়ক ছিল না। পুরো পথ ছিল ঘন বন ও খাড়া পাহাড়ে ঘেরা। কমপ্লেক্সে পৌঁছে যতদূর চোখ গেছে, শুধু ধ্বংসস্তূপই দেখা গেছে।
বন্যায় গিরং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও আশপাশের অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষের পুরু স্তরের নিচে চাপা পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পাথর ও বোল্ডার পড়ে থাকায় বন্যার পানির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসাবশেষ সরাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে তিব্বত ও নেপালের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত চালু করার চেষ্টা চলছে।
গত ২৫ আগস্ট তিব্বত সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। বন্যার স্রোতে ঘরবাড়ি, যানবাহন ও সেতু ভেসে যায়। এতে ৬০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং প্রায় ২ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যার সময় গিরং ইমিগ্রেশন সেন্টার ও আশপাশে অন্তত ১৩০ জন মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮০ জন ছিলেন আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের সদস্য। ওই দলে ১৯টি দেশের ৪৬ নারী ও ৩৪ পুরুষ ছিলেন বলে সদগুরু জানিয়েছেন।
সদগুরু জানান, বন্যার কয়েক মিনিট আগে তাঁর দলের সদস্যরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছেছিলেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনিও একই চেকপোস্ট দিয়ে সফরসঙ্গীদের নিয়ে গিয়েছিলেন।
এদিকে নেপালে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের অংশে থাকা প্রায় ৪০০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে ভারত সরকার বলে শুক্রবার জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গিরং সীমান্ত বন্দরটি তিব্বত ও নেপালকে যুক্ত করেছে। কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন পয়েন্ট এটি।
এদিকে দুর্যোগের পর ওই এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হ্রদটির পানি বাড়তে থাকলে সেটি ভেঙে গিয়ে নিচের দিকে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলোকে এ কারণে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
Leave a comment