যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যেসকল দেশ অংশ নেবে, তাদেরকে নিজেদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভাষণে এই চূড়ান্ত বার্তা দেন।
ভাষণে রেজাই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় যুক্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান। যদি কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক বিধি-নিষেধ আরোপে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করে, তবে তেহরান তাকে সরাসরি শত্রু হিসেবে গণ্য করবে এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর আঘাত হানবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এ যাবৎকাল শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে; কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তেল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে মোহসেন রেজাই জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি নতুন করে তেহরানের বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে “ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী”। একই সাথে প্রতিবেশীদেরও মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের প্রচারণায় যুক্ত না হতে অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নতুন ও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। যদিও চীনসহ ইরানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা ওয়াশিংটনের এই নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির মুখে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে মারাত্মক সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
Leave a comment