আবু হানিফ, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সলঙ্গা থানা সদরসহ আশপাশের গ্রামাঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের চিত্র ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বিশেষ করে রাইস মিল, স-মিল, বরফকল ও ওয়ার্কশপসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময় ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
সলঙ্গা জোনাল অফিসের এজিএম (কম) রাকিব হাসান জানান, সলঙ্গা জোনাল অফিসের আওতায় দবিরগঞ্জ, নলকা ও সিরাজগঞ্জ রোড—এই তিনটি সাবস্টেশন রয়েছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, নলকা সাবস্টেশনে বিদ্যুতের ঘাটতি তেমন না থাকলেও সিরাজগঞ্জ রোড ও দবিরগঞ্জ সাবস্টেশনে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় করতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ-১, উল্লাপাড়া আরএস-এর জেনারেল ম্যানেজার বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিং কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক আশ্বাস নয়, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি দূর করে সলঙ্গায় নিরবচ্ছিন্ন ও সহনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
Leave a comment