যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যে নিয়ন্ত্রণহীন ও বিধ্বংসী দাবানল মোকাবিলার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অগ্নিনির্বাপক একটি বিশেষ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে স্থানটিতেই পাইলটসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটিতে থাকা অপর দুই ক্রু সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সরকারি বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সেবা চুক্তির অধীনে পরিচালিত বিশাল আকৃতির সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের ওই হেলিকপ্টারটি রিচফিল্ড এলাকার একটি জলাধারের সন্নিকটে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। উক্ত এলাকায় ‘ওয়াইডমাউথ ২’ নামে পরিচিত একটি দ্রুত বিস্তারমুখী দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। হেলিকপ্টারটি আকাশপথ থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছিল। কার্যক্রম চলাকালীন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকাশযানটি খাড়া পাহাড়ি ঢালে আছড়ে পড়ে।
জাতীয় আন্তসংস্থান অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে, দুর্ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম, খাড়া পাহাড়ি পথ এবং চারপাশের তীব্র আগুনের লেলিহান শিখায় ঘেরা থাকার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় অত্যন্ত বেগ পেতে হয়। প্রবল প্রতিকূলতা ও জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ দুটো উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি নিরাপত্তা মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে আকাশপথের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষে বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশ ও স্থলপথে সমন্বিত অভিযান পুনরায় পুরোদমে শুরু করা হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে রাজ্য গভর্নর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে একটি আকস্মিক বজ্রপাতের মাধ্যমে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। সময়ের সাথে সাথে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার একরেরও বেশি বিস্তৃত বনভূমি পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ছাই করে দিয়েছে। এটি বর্তমানে উটাহ রাজ্যের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ দাবানলে রূপ নিয়েছে, যার মাত্র ২৪ শতাংশ আগুন এ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে গিয়ে গত জুনেও এই অঞ্চলে বেশ কয়েকজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা ওই এলাকার বনকর্মীদের চরম ঝুঁকির বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করে তুলল।
Leave a comment